গল্প
পাঁখিটার নাম
কি নাম তোমার?
:কেনো তুমি জানো না? অ্যাহহ্যা বলতে হয়, ফের প্রশ্ন করাটা বেয়াদবি।
:না, বার বার নাম জিজ্ঞেস করাটাও বেয়াদবি। আমি তোমার ছোট ত কী হইছে! যারা ভোলে যায় তাদেরকে বার বার বলেলেও ভালো লাগে, কারণ একটা মানুষ মনে রাখতে পারতেছে না, এটা তার অপরাধ নয় অক্ষমতা। আর কারও অক্ষমতা নিয়ে কথা বলাও ঠিক না। যারা কথা বলে বুঝতে হবে তারা ম্যাচিউরড না।
:আর?
:‘আর’ আবার কি!! তুমি কিন্তু এখন আমাকে ইনসাল্ট করতেছ!
:না, তা মনে করার কিছু নেই, তুমি কথা শুরু করলে কিন্তু ভালোই বলো, ভালো লাগার জন্যই ‘আর’টা চলে এসেছে, যা এখন বলা মনে হয় ঠিক হয়নি…
:না না তুমি আমার নাম না বললে ত এভাবে আমার বকবক শুনতে হবে।
:বুঝেছি তোমার সাথে মজা করে কোনোকথা বলা যাবে না।
:যাবে না কেনো! ঠিকঠাক মত বলো সমস্যা কোথায়?
:তুমি তো আমাদের লক্কিপাখিটা হাসনাবানো।
মহারাজের কাছে নালিশ
আচ্ছা মামা, গোপাল ভাঁড়ের গল্পগুলো যে আমাকে পড়তে দিলে, গল্পগুলো পড়তে তো মজাই লাগছে।
: ভালো তো, বইটা শেষ করো, ভালো লাগবে।
ভালো লাগছে, কিন্তু কিছু প্রশ্ন মনে ডানা মেলছে।
:এটাই হওয়া উচিত, সব কথায় তুমি হ্যাঁ হ্যাঁ বললে, কোন প্রশ্ন করলে না, লোকে তো তোমারে বোদাই ভাববে, তাই না? তো মনে কি প্রশ্ন খেলতেছে শুনি?
:‘রসিক-গোপালের চালাকি’ গল্পের কথা বলতে চাচ্ছি…
:হ্যাঁ বলো শুনি?
:“গোপাল পাড়ার এক দোকান থেকে বাকি খেয়েছে। অনেক দিন হয়ে গেল দেনা সে শোধ করছে না। তখন মুদি রেগে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে আরজি জানাল। পাঁচ টাকা দেনা ছিল সাত টাকার দাবিতে মুদি মহারাজের কাছে নালিশ করল। গোপাল রাজার তলব পেয়ে রাজসভায়” পৌঁছায়, কিন্তু গোপাল মহারাজের কাছে-থেকে তার পক্ষে রায় না পেয়ে তার “রাগ কিছুতেই গেল না। সে এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ভাবল।”
:আমি গল্পটা শেষ করি মামা, তা না হলে তোমাকে বলতে পারছি না।
:হ্যাঁ তাই করো…।
:“মনে মনে সে ফন্দী আঁটতে লাগল-- কী করে এই মুদি জব্দ করা যায়। হঠাত একদিন সে একটা বুদ্ধি বের করল। সেবছরে গোপালের বাড়িতে আখের চাষ খুব ভাল হয়েছিল। সে কিছু আখের গুড় লোকের দ্বারা তৈরি করিয়ে নিল।
তারপর বেশ কিছুদিন সে এমনভাবে আলাপ-ব্যবহার করতে লাগল মুদির সঙ্গে যে মুদির ভুলক্রমেও সন্দেহ হল না তাকে জব্দ করার ফন্দী করছে গোপাল।
গোপাল একদিন কথা প্রসঙ্গে মুদিকে বলল, সে কিছু আখের গুড় সস্তায় বিক্রি করতে চায়। সামান্য লাভ রেখেই বেচে দেবে। টাকার বিশেষ প্রয়োজন। সস্তা দামের কথা শুনে মুদি কিছু গুড় কিনতে চাইল। গোপাল গুড় বিক্রি করতে রাজি হলো যে নগদে ক্রয় করতে হবে। মুদি নগদ টাকা দিয়ে পিপে ভর্তি গুড় সস্তায় কিনে গরুর গাড়ি করে আনন্দে বাড়ি নিয়ে গেল।
কয়েকদিন পরে পিপে খুলে সে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। কি সর্বনাশ! সামান্য গুড় উপর দিকটায় আসে বটে, কিন্তু তার তলায় সে সবই বালি মেশানো ইট সুরকির কুচি দানা। হায় হায় করে মুদি কাঁদতে লাগল এবং মনে মনে রাগ হল।
গোপাল গুড় বিক্রি করে নগদ টাকা পেয়ে ছেলে, মেয়ে, বৌ নিয়ে বেশ কয়েকদিন বাইরে বেড়াতে গেল মনের আনন্দে।
মুদি কিছুদিন পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে গোপালকে বার করল। গুড়ের তলায় বালি সুরকির কথা বলে চোটপাট শুরু করতেই গোপাল বলল, ‘চটো ক্যান মুদি ভাই? ঘি ছাড়া অড়হর ডাল ব্যাচন যায় না, আর আমি বালি-সুরকি ছাড়া সরেস দানা গুড় বেচুম্ ক্যামনে?’ এই বলে হেসে হেসে গড়িয়ে পড়ল মাটিতে।”
:আমার প্রশ্ন হচ্ছে গোপালের পক্ষে রায় না পাওয়ায় এবং এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সে হয়ত কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে? এই প্রতিশোধ নেওয়ার গল্পগুলি একজন লেখক তার পাঠককে জানাতে যাবেন কেন? মামা আমি তোমার কাছে বা জাহিলিয়াত বা জাহিলি যুগের গল্প শুনেছি, তারা ছোট একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে অনেক বছর ঘটনার নানান পরিক্রমায় যুদ্ধ চালিয়ে যেত, আমার তো মনে হয় সেই যুগের থেকে এখন পর্যন্ত মন-মানসিকতায় বিশেষ এগোইনি?
:মাগো গোপাল কী করেছে তার একটা বিহিত করতেই হবে, করবো। তার আগে আমি তো তোমার ফোকাস করার বুনন দেখছি। সুন্দর, ভালো লাগল।
:মামা, তুমি কিন্তু বিষয় থেকে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছো...
:না, নারে মা, তা করছি না তবে আমার ভালো লাগাটা তোকে বুঝাতে পারব না, অকে তোমার কথার ঝালেই ফিরি…, —ছোট করে যদি বলি গল্পটা পড়ে তুমি যে পয়েন্ট নোটিশ করলে তা নিয়েছ তুমার পরিবার থেকে তুমার শিক্ষা থেকে। বাসে উঠলে দেখা যায় সিটের উপরের দিকে লেখা আছে ‘ব্যবহারে বংশের পরিচয়’, যদিও কথাটা আমি বিশ্বাস করি না, হবে ব্যক্তির পরিচয়, যাই হোক সেটা অন্য তর্ক, তো যা বলছিলাম... শিক্ষাঙ্গন থেকে তুমি শিখবে পৃথিবীটাকে কীভাবে দেখতে হয় আর ঘর থেকে শেখানো হয়েছে কীভাবে যেতে হয় শিক্ষাঙ্গনে। এই যাওয়া আর দেখানোটাই হচ্ছে মূল শিক্ষা। এখান থেকেই তুমি পেয়ে যাবে সিন্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। যা তুমি আজ করলে।
:মামা আমি কিন্তু তোমার কথার আগা-মাথা কিছুই বুঝিনি, আমার মনে হচ্ছে তুমি ধরা খেয়েছ আর আমাকে উল্টোপাল্টা কথা বলে একটা বোঝ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছ।
:না রে না, কথা গুলো তোর মাথা পর্যন্ত না গেলেও কান পর্যন্ত তো গেছে এতেই হবে। কারণ আমি জানি প্রতিটা কম্বলই ‘ওম’ দেয় আর তা নেয়ার জন্য বা অনুভব করার জন্য ‘সময়’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা না দিলে পৃথিবীর কোনো ধরনের ফ্লেভার তুমি পাবে না; বুঝবে না।
:আচ্ছা এখানে কম্বল, ফ্লেভার, অনুভব আসছে কেনো? কি বলতেছ এই সব?
:হ্যাঁ বলছি-- দেখোও মা একটা গল্প বা সিনেমা তখনই সফল হবে যখন তার এন্টি হিরো শক্তিশালী হবে, যদি কোনো শয়তান বুড়ি বা ভিলেন ছাড়া গল্প লেখা হয় সেই গল্প কেউ পড়বে না। আর শয়তান লোকটা আছে বলেই ভালো মানুষটাকে সহজেই চেনা যায়। পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী দেশ কোনটা?
:আমেরিকা।
:আমেরিকা!! অকে তোমার কথা মেনে নিয়েই আগাই, কেনো? তারেই কেন সবাই শক্তিশালী বলে সবাই চিনে?
:বড় দেশ, টাকা বেশি।
:হ্যাঁ তা তো ঠিক আছে, দেশে-দেশে যুদ্ধও তো সেই আমেরিকাই চাবি দিয়া দেয়, তার উসকানিতে যুদ্ধ চলতেই থাকে, তবুও আমরা তার দেশেই যেতে চাই, যাই…
:মানুষ তাকে ভয়ে বড় বলে, এমন না কিন্তু; বড় বলার মতো তার অনেক গুণও আছে...
:মা কথাগুলি বুঝতে না পারলেও শোনো, প্রথম দিনই মানুষ বুঝে না। দেখতে দেখতেই দেখে যায় আর শুনতে শুনতে বোঝে। আঘাতের পরে ব্যথাটা বোঝা যায়, সময় মতো ব্লাইন্ড থাকে সব, সব মাধ্যমেই। অনুভূতি শূন্য।
:সৎ থাকতে হবে; চিন্তায় সততা না থাকলে তুমি তা প্রকাশ করতে পারবে না, প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব বলা যায়। আর এই সততা তোমাকে চিনিয়ে দেবে গল্পের বা সিনেমার শয়তান লোকটা, নায়ক নয়। নায়কের সততা তুমি চিনতে পারবে ভিলেনের চরিত্রের মাধ্যেমে। বাতি জ্বললে চারপাশ আলোকিত হয়, নিভিয়ে দিলে আনন্দ খেলা করে।
:মামাআআআআ...
০৩/১০/২০২৪

No comments:
Post a Comment